নাঈম ঘুরে ঘুরে নাদিয়ার জন্য কিনেছিলেন ৩টি শাড়ি






ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’, চাঁদরাতে নজরুলের এই গান যেন সত্যিই ঈদের আনন্দকে প্রকাশ করতে অনিবার্য। মঙ্গলবার চাঁদ দেখা গেলে রাত পেরোলেই বুধবার ঈদ। আর আজকের দিনের আনন্দকে ভাগাভাগি করতে প্রথম আলোর বিশেষ ঈদ আড্ডার অনুষ্ঠান ‘এসিআই স্যান্ডাল সোপ প্রিয় তারকার ঈদ আয়োজন’।

এ আয়োজনে উপস্থিত প্রিয় তারকা দম্পতি নাদিয়া আহমেদ ও ফারুক সোবহান নাঈম। বিয়ের পর এবার তাঁদের তৃতীয় ঈদ। তাই জানতে চাওয়া হয়, কেমন ছিল বিয়ের পর তাঁদের প্রথম ঈদ? নাদিয়া জানালেন, বিয়ের পরের ঈদ সব সময়ই খুব বিশেষ হয়ে থাকে। ঈদের দিন নাদিয়া নিজের হাতে শ্বশুরবাড়ির সবার জন্য রান্না করেন। আর প্রথম ঈদে তাঁর শ্বশুর খাবার খেতে খেতে বারবার বলেছিলেন, ‘বিউটিফুল, মা বিউটিফুল।’

পাশ থেকে নাঈম মজা করে বললেন, নাদিয়ার রান্না করা খাবার এত মজার বলেই তিনি বেশি খেয়ে ফেলেন এবং ওজনটাও বাড়তির দিকে। নাদিয়া জানালেন তাঁর ছোটবেলার ঈদের কথাও। শিশু নৃত্যশিল্পী হিসেবে একবার ঈদের সময় তুরস্কে গিয়েছিলেন নাচের অনুষ্ঠানে। সেবার ঈদ ছিল পরিবার ও দেশ থেকে অনেক দূরে একা একা কাটানো মন খারাপ করা এক ঈদ।


নাঈম অবশ্য জানালেন, তাঁর ঈদ সব সময়ই আনন্দে কেটেছে। বিশেষ করে ঈদের নতুন জামা বন্ধু ও ভাইবোনদের থেকে লুকিয়ে রাখার একটা প্রবণতা ছিল, যেন কারও সঙ্গে কারও মিলে না যায়। শৈশবের ঈদ এবং এ সময়ের ঈদের মধ্যে নাঈম যেটা পার্থক্য পান সেটা হলো, প্রতিবেশীদের প্রতি আন্তরিকতা। এখন আর কেউ প্রতিবেশীকে ভদ্রতা করেও ইফতারি পাঠায় না। প্রিয় এই তারকা দম্পতির সঙ্গে কথা হলো তাঁদের প্রথম ঈদের উপহার দেওয়া নিয়েও।

নাদিয়া জানালেন, নাঈম একা গিয়ে মিরপুর বেনারসি পল্লি ঘুরে নাদিয়ার জন্য কিনে এনেছিলেন তিনটি শাড়ি। উপহার দিয়েছিলেন তাঁকে। আর নাদিয়াও নিজে পছন্দ করে কিনেছিলেন নাঈমের জন্য ঈদের পাঞ্জাবি।


তারকা হলেও তাঁরা সাধারণ মানুষের মতোই পরিবার, বন্ধু, আশপাশের মানুষ নিয়েই সাধারণ জীবন যাপন করতে পছন্দ করেন। নাঈম জানালেন, তিনি বেশির ভাগ সময় চেষ্টা করেন রাস্তায় হেঁটে যাতায়াত করতে, কারণ নিজের দেশ, এলাকা, রাস্তা এবং মানুষকে জানতে হলে হেঁটেই ঘুরে দেখতে হয়। এবারের ঈদে তাঁরা দুজনেই কাজ নিয়ে ব্যস্ত, নতুন নাটক আসছে দুজনেরই। দুজনেই দুজনের গুণমুগ্ধ ভক্ত। তাঁরা জানালেন, ঢাকার ঈদ ভালো লাগার একটা কারণ হলো ফাঁকা ঢাকা।


এ ছাড়া ঈদের দিনে একটু সাজগোজ তো করতেই হয়। কেমন সাজবেন? জানতে চাইলে নাদিয়া জানালেন, যেহেতু তাঁরা অনেক বেশি সময় ধরে মেকআপ করে কাজ করেন, তাই বাসায় ফিরেই চেষ্টা করেন ত্বকের পরিচর্যাটা যেন ভালোভাবে হয়। নাদিয়ার রূপচর্চার প্রধান কাজ হলো ভালোভাবে ত্বক পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগানো। আর ঈদের দিনে সাজের মধ্যে নাদিয়া যেটা মাথায় রাখেন তা হলো, দিনের সাজটা একটু হালকা রাখা এবং রাতের সাজটা একটু ভারী করা। আর গরমে আরামদায়ক এবং হালকা রঙের পোশাকই তাঁর ভালো লাগে। নাদিয়া যখন এসব বলছিলেন, নাঈম তখন মুগ্ধ হয়ে নাদিয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলেন যেন, পাশেই তাঁর সোনারবরন কন্যা বসে আছেন।

রোমান্টিক এই দম্পতি চাঁদরাতের আড্ডার আয়োজনকে রোমান্টিক করে ফেলেছিলেন ‘এই রাত তোমার-আমার, শুধু দুজনে’ গান গেয়ে । ঈদ আড্ডার এই বিশেষ অনুষ্ঠান ‘এসিআই স্যান্ডাল সোপ প্রিয় তারকার ঈদ আয়োজন’ দেখতে চোখ রাখুন প্রথম আলোর ফেসবুক পেইজ, ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেলে।

No comments

Powered by Blogger.