কেন গর্ভবতী হতে চাইছেন না মহিলারা! কি বলছেন মনোবিজ্ঞানীরা


মা হওয়া মোটেও আর খুশির খবর নয় অনেক মহিলার কাছেই। বিশেষ করে বেশিরভাগ কর্মরতা ​​মহিলারাই এখন মনে করছেন যে গর্ভবতী হওয়ার কারণে তাদের চাকরি আশঙ্কার মুখে। মা হওয়ার খবর পেলে, বা গর্ভাবস্থাকালে মহিলাদের কাজ থেকে বহিষ্কৃত করা হতে পারে এই ভয়েই দিন কাটে অনেকের। যদিও পুরুষদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। বাবা হওয়ার খবর পুরুষদের কর্মক্ষেত্রে খানিক উৎসবের মুহূর্ত যেন। গবেষকরা বলছেন, মা হওয়ার খবরে চাকরি হারানোর ভয় বাড়ছে মহিলাদের মধ্যে। মা হতেও চাইছেন না অনেক চাকুরিরতা মহিলা। ফলিত মনোবিজ্ঞানের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণাটি। গবেষণায় প্রমাণিত যে, সন্তানের মা হয়ে যাওয়ার পরে অফিসে গেলে মহিলারা মনে করেন যে এখন তাদের আর সেভাবে অফিসে বা কর্মস্থলে স্বাগত জানানো হবে না।


 চল্লিশ পেরোলেই ভারতে কমে যাচ্ছে যৌন ইচ্ছা, কেন বাড়ছে লিবিডোর এই রোগ

ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন যে, মহিলাদের উপর করা প্রথম এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, তাদের মনে হয় গর্ভাবস্থার সময় তাদের চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হবে। ব্যবস্থাপনা বিষয়ের সহ অধ্যাপক, পুস্তিয়ান আন্ডারডল বলেন, “আমরা দেখেছি যে নারীরা যখন তাদের গর্ভধারণের কথা প্রকাশ্যে আনে তখন কর্মস্থলের অনেকেই তাঁদের আর আগের মতো চোখে দেখে না।"


পুস্টিয়ান আরও বলেন, “যখন মহিলারা এই বিষয়ে তাঁদের বস বা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তখন আমরা দেখেছি যে তাদের কাজে ক্ষেত্রে কম উত্সাহিত করা বা প্রোমোশনের সম্ভাবনার হার কমে গিয়েছে, অথচ পুরুষদের এই ক্ষেত্রে উত্সাহিত করার হার বৃদ্ধি পেয়েছে।”

অ্যাসিড হলেই অ্যান্টাসিড নয়, বরং বাড়িতে থাকা এই উপাদানেই আস্থা রাখুন


পুস্টিয়ান দুটি তত্ত্বের গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছেন। প্রথমত, তিনি জানিয়েছেন, গর্ভবতী মহিলাদের চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার ভয় কাজ করে বেশিই। দ্বিতীয়ত পুস্টিয়ান জানিয়েছেন, মহিলারা এই কারণেই ভয় পান কারণ, গর্ভাবস্থায় ব্যক্তিগত জীবনে ও কর্মজীবনের ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন আসে যা একা মহিলাদেরই মোকাবিলা করতে হয়। গবেষণায় কিছু নতুন বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে যে গর্ভবতী মহিলাদের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে কীভাবে কাজ করা উচিত, কীভাবে ব্যবহার করা উচিৎ।

পুস্টিয়ানের মতে, “মা হতে চলা মহিলাদের কর্মজীবনে উৎসাহ দেওয়া বা প্রোমোশন দেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিচারিতা করা বা নিরুৎসাহিত করা একেবারেই উচিত নয়। পাশাপাশি বস বা কর্তৃপক্ষকে সন্তানের বাবা এবং মা দুজনেরই সামাজিক নানা সাহায্য প্রদানেও নজর রাখতে হবে। শুধু অফিস নয়, চাকুরিরতা গর্ভবতীদের নিজেদের পরিবারকেও ততখানিই সংবেদনশীল হতে হবে যাতে কাজ ও পরিবারের চাপে মানসিক দিক থেকে মা বা বাবা কেউই ভেঙে না পড়েন।”

No comments

Powered by Blogger.