সাদ্দামের জন্য রাস্তায় শিল্পীরা




ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি বরিশালে যাওয়ার পথে লঞ্চকর্মীরা এফডিসির প্রোডাকশন বয় সাদ্দামকে মেরে নদীতে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ জানিয়েছেন ঢাকাই শোবিজের টেলিভিশন মিডিয়ার শিল্পী-নির্মাতা-কলাকুশলীরা । ঈদের পর সেই প্রোডাকশন বয় সাদ্দাম হত্যার প্রতিবাদে এবার রাস্তায় দাঁড়ালেন তারা । বুধবার বিকেল ৪টায় রাজধানী উত্তরায় রাজলক্ষীর সামনে এই মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পী সংঘ ও ডিরেক্টর গিল্ড এর পক্ষ থেকে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। 

টিভি মিডিয়ার প্রায় সকল তারকা শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলীরা এ মানবন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। সাদ্দামের পরিবারের সদস্যরাও এ মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতি সালাউদ্দিন লাভলু ও সেক্রেটারি এস এ হক অলিক। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন শহীদুজ্জামান সেলিম, মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, রওনক ইকরাম, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, সাজু খাদেম, কচি খন্দকার, নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ, শিহাব শাহীন, তুহিন হোসেন, অভিনেত্রী মনিরা মিঠু, তানিয়া আহমেদ, রুনা খান, কাজী রোজি, উর্মিলা শ্রাবন্তী কর, শাহনাজ খুশিসহ অনেকেই।

 এ সময় ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতি সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘সাদ্দাম আমাদের মিডিয়ার ছেলে। এভাবে একজন মানুষ খুন হয়ে যাবে অথচ প্রশাসন এর বিচার করবেনা তা হয়না। আমরা তার হত্যার বিচার দাবী করছি। তার জন্য সবাই রাস্তায় নেমে এসেছি। আশা করি সাদ্দামের হত্যার সুষ্টু বিচার পাবো’


শিল্পীরা অভিযোগ করেন গ্রামের বাড়ি বরিশালে যাওয়ার পথে লঞ্চকর্মীরা এফডিসির প্রোডাকশন বয় সাদ্দামকে মেরে নদীতে ফেলে দেয়।  ‘ফারহান-১০’ নামের একটি লঞ্চে করে বাড়ি ফিরছিলেন সাদ্দাম। লঞ্চের কর্মচারীদের সঙ্গে ঝগড়া হলে তারা খুনের মতো অপরাধ করেন তারা। প্রশাসনের কাছে   কাছে এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চান তারা।

এর আগে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সুগন্ধা নদী থেকে এফডিসির শুটিং সহকারী সাদ্দাম হোসেন (২২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২ জুন দুপুরে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জর উপজেলার কেদারপুর গ্রামের লোকজন মরদেহটি নদীতে ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দিলেন পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

মৃত সাদ্দাম হোসেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ওটরা গ্রামের মো. শাহজাহান ব্যাপারীর ছেলে ও ঢাকার এফডিসিতে শুটিং সহকারীর কাজ করতেন।

ঈদ উদ্‌যাপনের জন্য গত বৃহস্পতিবার পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া রুটের এমভি ফারহান-১০ লঞ্চে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন সাদ্দাম। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে জানিয়েছেন সাদ্দামের ভগ্নিপতি মো. মাইনুল।

তিনি জানান, রাতে লঞ্চে বসে সাদ্দাম তাকে ফোন করে জানিয়েছে সে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছেন। অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের সঙ্গে তার হাতাহাতি হয়। মুঠোফোনে ওই খবর পেয়ে তিনি সাদ্দামকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বানারীপাড়ার মীরেরহাট লঞ্চঘাটে অপেক্ষা করেন। কিন্তু সাদ্দাম আর আসেনি। তার মুঠোফোনও বন্ধ ছিল। রোববার কেদারপুর গ্রামের স্থানীয় লোকজন নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে বাবুগঞ্জ থানায় খবর দেয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে তারা গিয়ে সাদ্দামের মরদেহ শনাক্ত করেছেন।

No comments

Powered by Blogger.