৩২১ কীভাবে টপকালেন, বললেন সাকিব


৩২২! এত রান তাড়া করে বাংলাদেশ কখনো জেতেনি। সে বিশ্বকাপে হোক কিংবা ও ওয়ানডেতে। টন্টনে ইতিহাস গড়তে পারবে বাংলাদেশ? সাকিব আল হাসান আর লিটন দাস দুর্দান্ত দুই ইনিংস খেলে সেই সংশয় দূর করে মিলিয়ে দিয়েছেন সব প্রশ্নের উত্তর। সাকিব-লিটন একেকটা বাউন্ডারি মেরেছেন আর টন্টনের আট হাজার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ছোট্ট স্টেডিয়ামটি ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে উঠেছে!



পুরো গ্যালারিতে উঠেছে মেক্সিকান ওয়েভ। এই তরঙ্গের তালে যেন লাল-সবুজ পতাকা ঢেউ খেলছে! মজার দৃশ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের দর্শকদের এই উচ্ছ্বাসে কখনো কখনো যোগ দিয়েছেন ক্যারিবীয় কিংবা নিরপেক্ষ ইংলিশ সমর্থকেরাও। সাকিব-লিটন চোখজুড়ানো ব্যাটিং করে যে বিমল আনন্দ দিয়েছেন, খাঁটি ক্রিকেটপ্রেমী ক্যারিবীয় দর্শকেরা নিজের দলের দুর্দশা দেখার পরও সেটি উপভোগ করেছেন মনভরে, প্রাণভরে। সাকিব-লিটন বুঝতেই দেননি, রানের পাহাড়ের জবাব দিতে নেমেছেন। লক্ষ্যটা ৩০০ রানের ওপর চলে গেলেই সাধারণত মনস্তাত্ত্বিকভাবে পিছিয়ে যেতে হয়। ভড়কে যেতে হয়। সাকিব-লিটনের ব্যাটিং দেখে তা একবারও মনে হয়নি। কী নির্বিকার, ঠান্ডা মাথায় ক্যারিবীয় বোলারদের চালিয়ে গেলেন!

ইনিংস বিরতিতে নিজেদের মধ্যে কী এমন কথা হয়েছে যে সাকিব-লিটনের গায়েই বাধেনি যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে তাঁদের? সাকিব বলছেন, ইনিংস বিরতিতে তাঁরা শান্ত ছিলেন। ম্যাচ শেষে কাল সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বললেন, ‘প্রথম ইনিংসের পর আমাদের কারও মনে হয়নি লক্ষ্যটা কঠিন। সবাই খুব স্বাভাবিক আর নির্ভার ছিল। এটা আমাদের ড্রেসিংরুমে অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। বিশ্বাস জন্মেছে যে আমরা ওই রান তাড়া করতে পারব। দুই ওপেনার যেভাবে শুরু করেছিল, সবাই ভালো অনুভব করেছি ও আর নির্ভার থেকেছি। ’


অতীতে বাংলাদেশ দল এমন অনেকবার ভালো শুরু করে কিংবা ভালো অবস্থানে থেকে হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়েছে। এই রোগটা কাল পেয়ে বসতে দেননি সাকিব-লিটন। মনের বাঘটা কীভাবে তাড়া করেছেন, সেটিও সবিস্তারে বললেন সাকিব, ‘আয়ারল্যান্ডের ওই কটা ম্যাচ আমাদের অনেক সহায়তা করেছে। ওখানে প্রতিটি ম্যাচই আমরা রান তাড়া করে জিতেছি। কখনো মনে হয়নি, আমরা চাপ নিয়ে ব্যাটিং করেছি। বড় শট খেলতে হবে যখন ঠিকভাবেই খেলেছি। কোচিং স্টাফের কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। আগে আমরা ঘাবড়ে যেতাম ড্রেসিংরুমে। এখন কোচিং স্টাফরা অনেক শান্ত থাকে, ভড়কে পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। যখন শুনি কেউ রেডিওতে ধারাভাষ্য শুনছে, গল্প করছে, কোনো পর্যায়ে মনে হয় না ওরা টেনশন নিচ্ছে। প্যানিক হচ্ছে ছোঁয়াচে, একজন করলে সেটি ছড়িয়ে পড়ে সবার মধ্যে। কোচিং স্টাফ এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে, বড় রান তাড়া করা এটাও একটা কারণ।’

No comments

Powered by Blogger.