ধূমপান ত্যাগ করুন বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে – Bangla Health Tips

Bangla Health Tips: ধূমপান স্বাস্থ্যহানি ঘটায় এ কথা সবারই জানা। ধূমপানের ফলে ক্যান্সার, হৃদরোগের আশঙ্কাসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এসব কথা জেনেও অনেকে ধূমপান ত্যাগ করতে ব্যর্থ হন। অনেকে ধূমপান ছাড়ার ঘোষণা দিয়েও ছাড়তে পারেন না। গবেষণায় বলা হয়, তীব্র মানসিক ইচ্ছা এবং জীবনযাপনের কিছুটা পরিবর্তন আপনাকে ধূমপান ত্যাগ করতে সাহায্য করবে। এ ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে নিম্নে দেয়া পদ্ধতিগুলো কাজে লাগাতে হবে। আসুন দেখে নেই পদ্ধতিগুলো।
মানসিক চাপ: মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন। অনেকে মানসিক চাপের ফলে ধূমপান করেন। তাই মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। মানসিক চাপ দূর করতে নিয়মিত ম্যাসাজ করান অথবা মনকে হালকা করতে গান শুনুন। যোগ ব্যয়ামও করতে পারেন। এগুলো আপনাকে চাপমুক্ত করে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
ব্যক্তিগত যুক্তি: ধূমপান ছাড়তে শক্তিশালী ব্যক্তিগত যুক্তি দাঁড় করান। ধূমপান ছাড়ার আগে অবশ্যই জানতে হবে কেন ধূমপান ছাড়তে চান আপনি। একটি ব্যক্তিগত শক্তিশালী কারণ অবশ্যই থাকা দরকার যা আপনাকে ধূমপান ত্যাগে সাহায্য করবে। হয়তো নিজেকে সবসময় তরুণ হিসেবে দেখতে চান, আপনার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে বেশি দিন সুস্থ্য সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে চান অথবা আপনার ফুসফুসে ক্যান্সার হতে পারে। এসব ভেবে একটি শক্তিশালী কারণ দাঁড় করান এবং সেটি ভেবে ধূমপান করা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনুন।
সবার সহায়তা: আপনি ধূমপান বন্ধ করতে চাইছেন বিষয়টি বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সদস্য এবং অফিসের সহকর্মীদের জানান। তাদের বলুন আপনাকে উৎসাহিত করতে। হয়তো কোনো পার্টিতে গিয়ে একটি সিগরেট ধরিয়েই ফেললেন তখন আশপাশের লোকজন নিষেধ করলে বিষয়টি কাজে লাগতে পারে। গবেষণায় বলা হয়, আমাদের বিভিন্ন বাজে অভ্যাস বর্জনে মিলিত আচরণগত চিকিৎসা বেশ কাজে আসে।
টেক্সট মেসেজ: পশ্চিমা কিছু দেশে এমন সুবিধে আছে যে যারা ধূমপান ছাড়তে আগ্রহী তাদের ফোনে একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর ধূমপান ছাড়ার উপকারিতা এবং ধূমপানের অপকারিতা সম্বলিত টেক্সট মেসেজ আসবে। আপনি যা করতে পারেন তা হলো, আপনার প্রিয় মানুষটিকে বলতে পারেন আপনাকে নিয়মিত এরকম মেসেজ পাঠাতে। তাহলে আপনার মনে একটু হলেও ধূমপান থেকে দূরে থাকার তাগিদ থাকবে।
চুইঙ্গাম চিবানো: যখন আপনি সিগারেট ছাড়তে চাইবেন তখন আপনার হতাশ ও বিষণ্ণ লাগতে পারে। তাই সিগারেটের বিকল্প কিছু ভাবুন। গবেষণায় বলা হয়, সিগারেটের বিকল্প হিসেবে নিকোটিন গাম, লজেন্স খেলে বা চুইঙ্গাম চাবালে বদ অভ্যাস এড়ানো কিছুটা সহায়ক হতে পারে। সিগারেট ছাড়ার জন্য এখন বাজারে কিছু চুইঙ্গাম পাওয়া যায় যেগুলো বেশ কার্যকর। সেগুলো খেয়ে দেখতে পারেন।
শারীরিক পরিশ্রম: শারীরিক পরিশ্রম আপনাকে ধূমপান ত্যাগ করতে সাহায্য করবে। যখন ধূমপান করতে ইচ্ছা করবে হাঁটা শুরু করুন বা জগিং করতে পারেন। শারীরিক পরিশ্রমের ফলে আপনার ধূমপান করার ইচ্ছা চলে যেতে পারে। এর ফলে আপনার শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরিও দূর হবে।
ঠাণ্ডা স্থান পরিহার: আপনি হয়তো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন ধূমপান ত্যাগ করবেন। কিন্তু ঠাণ্ডা স্থানে বেশিক্ষণ থাকলে সেটি হয়তো আবার মাথা চাড়া দিতে পারে। গবেষণায়  দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ মানুষ ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করেও ছাড়তে পারেন না কেবল নিকোটিনের প্রভাবে। কেননা সিগারেটের ভেতর যে নিকোটিন থাকে সেটি নেশা তৈরি করে। মস্তিস্ক একপর্যায়ে নিকোটিন নিতে নিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং বার বারই গ্রহণ করতে চায়। ঠাণ্ডা স্থানে বেশিক্ষণ থাকলে নিকোটিন গ্রহণের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই ঠান্ডা স্থান পরিহার করুন।
ই-সিগারেট ব্যাবহার: উপরের পদ্বতিগুলো অবলম্বন করেও যদি আপনার ঠোঁটের মাঝে একটি ক্যান্সার স্টিকের অভাব অনুভব করেন, তাহলে একটি ই-সিগারেট নিয়ে নিন। ই-সিগারেট হল এক ধরণের যন্ত্র যেটা শরীরে ধূমপানের অভ্যাস জনিত নিকোটিনের চাহিদা পূরণ করে কিন্তু তামাকের অন্যান্য কিছু ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমায়। মূল উদ্দেশ্যে ই-সিগারেটের মাধ্যমে ধূমপানের আসক্তি থেকে সরে আসা এবং এক পর্যায়ে এই ই-সিগারেটও ছেড়ে দেয়া।
পরিশেষে, ধূমপায়ীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন এমন লোকের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। উপরোক্ত পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করুন অবশ্যই সফল হবেন।

No comments

Powered by Blogger.