প্রেক্ষাগৃহ বাঁচাতে হলিউডের মতো বলিউড সিনেমাও আমদানি করার সুযোগ দিতে হবে। ‘সমাধান না পেলে ১২ এপ্রিল থেকে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ’




বুধবার (১৩ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি মো. ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বাংলানিউজকে বলেন,

‘৪৭ বছর ধরে আমরা কখনও ভারতীয় সিনেমা চাইনি। কিন্তু এখন আমাদের দেশে সিনেমার সংখ্যা খুব কম হচ্ছে। প্রেক্ষাগৃহ ভালোভাবে চালানোর জন্য বছরে আমাদের প্রায় ১০০ সিনেমা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দেশে মানসম্মত সিনেমা নির্মাণের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

তাই প্রেক্ষাগৃহ বাঁচাতে হলিউডের মতো বলিউড সিনেমাও আমদানি করার সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি যৌথ প্রযোজনার সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে নীতিমালা শিথিল করতে হবে।’

‘এ বিষয়ে আমরা এতদিন সমাধানের অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু কোনও সুরাহ হয়নি। তাই এক মাসের মধ্যে সমাধান না পেলে আগামী ১২ এপ্রিল থেকে আমরা প্রেক্ষগৃহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি’, যোগ করেন মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার।

এদিকে মো. ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ স্বাক্ষরিত সংবাদমাধ্যমে পাঠানো একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা ১২৩৫ থেকে ১৭৪-এ নেমে এসেছে। আর দেশীয় সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০টি। পরিচালক এবং শিল্পীদের রুজি রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে কেবলমাত্র এই খোরা অজুহাতে উপমহাদেশীয় সিনেমা আমদানির বিরোধিতা করা হচ্ছে। তারা ৪৭ বছর প্রটেকশন পাওয়ার পরও সিনেমার গুনগত মান নীচের দিকে যাচ্ছে ক্রমাগত।

আরও বলা হয়,  ‘প্রদর্শক এবং প্রযোজকের পুঁজি ধ্বংস হয়েছে, প্রেক্ষাগৃহের পঞ্চাশ হাজার শ্রমিক পরিবার বেকার হয়েছে। সিনেমার বাজার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই নেতিবাচক অবস্থার এবং অসহায়ত্ব থেকে উত্থানের আশা আমরা বহুদিন ধরেই করে আসছি। কিন্তু আর ধৈর্য ধারণের সুযোগ নেই। আগামীতে ব্যবসা সফল হতে পারে সম্ভব্য এমন সিনেমা আমাদের সামনে আছে বলে আমরা আশ্বস্ত হতে পারছি না। এই অসহনীয় এবং নেতিবাচক অবস্থায় প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আমাদের সামনে কোন রকম বিকল্প নেই। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ১২ এপ্রিল থেকে সারা দেশে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দেবো।'

বাংলাদেশ সময়: ১৮১২ ঘণ্টা, মার্চ ১৩, ২০১৯
জেআইএম

No comments

Powered by Blogger.