জানুন কতটা নিরাপদ! মোবাইল ব্যাংকিং

মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস তথা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে যে ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়, তার প্রস্তুতির জন্য অপরাধীরা সময় নেয় প্রায় তিন মাস আর সেই অপরাধ সংঘটন করে মাত্র তিন মিনিটে। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই অপরাধ সংঘটন হয় যে, তা বেশির ভাগ সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়।


তবে ক্ষেত্রে বিশেষে প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব বলে বলে করেন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপরাধ তদন্ত বিভাগে ইকোনমিক ক্রাইম শাখায় কর্মরত) শাহ আলম।


মঙ্গলবার ঢাকার গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় ‘টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ’ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন ইন বাংলাদেশ: অপুরচুনিটিস, চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড থ্রু ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস’ সেমিনারে এ সব কথা বলেন।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শাহ আলম এ সময় মোবাইল ফোনের ফিনান্সিয়াল তথা আর্থিক সেবায় সংঘটিত অপরাধ, কারণ ও প্রতিকার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

শাহ আলম সেমিনারে অপরাধ সংক্রান্ত গাড়ি চোর ও পকেটমার গ্রুপের প্রতারণা, হ্যালো পার্টির প্রতারণা, জ্বিনের বাদশার প্রতারণা, চাকরি বা ডিলারশিপ প্রদানের নামে প্রতারণা, বিদেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জিম্মি করে হুন্ডিব্যবসা/থাইল্যান্ডভিত্তিক মানব পাচারে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়, সুন্দরবনের বনদস্যুদের হাতে জিম্মি বা আটক করে মুক্তিপণ আদায়, শিশু বা পূর্ণবয়স্ক মানুষকে জিমি করে মুক্তিপণ আদায়, মাস্টার ইন অল পীর-সন্যাসী, মারা গেছে গ্রুপের প্রতারণা, জজ সাহেবকে ফোন করুন, সিকিউরিটি সেল থেকে বলছি গ্রুপের প্রতারণা বা হুমকি ও ভুয়া ফ্লেক্সি করে টাকা ফেরত চাওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।

জানুন মোবাইল ব্যাংকিং কতটা নিরাপদ!

তিনি বলেন, এসব থেকে সাবধান থাকতে হবে। কারণ এই অপরাধগুলো প্রমাণিত এবং এভাবে প্রতারণা হচ্ছে। এসব জানার পরও অনেকে এই ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

পুলিশের এই অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক দীর্ঘদিন মোবাইল ফোন সংক্রান্ত (বিশেষ করে আর্থিক ঘরানার) অপরাধ তদন্ত করতে গিয়ে আরও দেখেছেন, ক্লোনসিম বা ক্লোন লাইক সিম ব্যবহার করে (ক্লোন সিম ব্যবহার, ওয়েবসাইট ব্যবহার, শেষ ৬ অংকের মিল রেখে কল) অপরাধ সংঘটন করা হয়।

তিনি জানান, এটি থেকে প্রতিকারের উপায় হলো- কল লগ থেকে ফোন না করে ফোনবুক থেকে কল করা। এতে কোনও সমস্যা হলে তখন ধরা সম্ভব। হ্যাকিং বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা শাহ আলম আরও উল্লেখ করেন, ফেসবুক আইডি হ্যাক করে আইডি ফিরিয়ে দেওয়ার নাম করেও টাকা চাওয়া হয় মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যবহার করে। এছাড়া পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে এবং বিভিন্ন অপারেটর থেকে ফোন করে গ্রাহককে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ঘটনা হরহামেশাই হচ্ছে। মূলত মোবাইল ফোনে আর্থিক বিষয়ে এসব প্রতারণার ঘটনা ঘটে থাকে।

তিনি একটি কেসস্টাডি উল্লেখ করে বলেন, চোরচক্র মোবাইল ফোনের ব্যালেন্স থেকে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেয়। এই কৌশলটা জানা না থাকলে যে কোনও সময় বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে পারে প্রতারক চক্র।

অনুসন্ধানে শাহ আলম জেনেছেন, যারা মোবাইল ফোন থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়, সেই চোরচক্রের মূল হোতা তার কামলাদের (সহযোগীদের) নিয়ে টার্গেট এজেন্ট (ব্যক্তিও হতে পারে) ঠিক করে এবং মোবাইল অপারেটর বা তাদের থার্ডপার্টি এজেন্টদের কাছ থেকে কোনও টার্গেট এজেন্টের নম্বরের রেজিস্ট্রেশন ফর্মের নমুনা স্বাক্ষর সংগ্রহ করে।

অন্যদিকে, পিনকোড চোর সরেজমিন এজেন্টদের দোকানে লেনদেন করার ছলে আনমনে দাঁড়িয়ে থাকার ভান করে আড়চোখে অন্যের পিনকোড দেখে নেয়। এরপর নমুনা স্বাক্ষর অনুশীলনকারী নমুনা স্বাক্ষর অনুশীলন করে থাকে। টাকা উত্তোলনকারী সরেজমিন এজেন্টের দোকানে এসে তার এজেন্ট নম্বর জানতে চান এবং বলেন তার ‘আত্মীয় বা বন্ধুর কাছ’ থেকে কিছু টাকা আসবে।

ঠিক ওই সময় টাকা উত্তোলনকারীর ইশারায় মূলহোতা বা তার সহযোগী ভিকটিম এজেন্টের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠায় (মানি লোড করে)।

টাকা উত্তোলনকারী ক্যাশ আউট করে বা নগদ টাকা উঠিয়ে মূলহোতাকে রিপোর্ট করে। মূলহোতার নির্দেশে নমুনা স্বাক্ষর অনুশীলনকারী কাস্টমার কেয়ার থেকে সিম তুলে তিন মিনিটের মধ্যেই চুরি করা পিনকোড বসিয়ে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পাচার করে।

No comments

Powered by Blogger.