ব্যান্ডজগতের অন্তরালের গল্প

বাংলাদেশের পপ মিউজিকের ইতিহাস, সাফল্য, ব্যর্থতা ও উত্তরণের পথ তুলে ধলা হয়েছে টেলিফিল্মে। নাম ‘শিল্পীসত্তা’। এর গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন  কামরুল হাসান নাসিম। 


“যারা সত্যিকার শিল্পী তারা কখনো মানুষের বিপক্ষে কোন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে পারে না। শিল্পীর সেই সত্তাকে প্রতিষ্ঠিত করতেই টেলিফিল্মটির নামকরণ হয়েছে ‘শিল্পীসত্তা’”-নিজের প্রথম নির্মাণ সম্পর্কে এমনটাই বলছিলেন নাসিম। সম্প্রতি তার পরিচালনায় রাজধানীর উত্তরা, বনানী, গুলশান ও গাজীপুরে চিত্রায়িত হয়েছে টেলিফিল্মটি।

এর গল্পে দেখা যাবে, আশির দশকে বনানীতে বসবাস করা পিটার মাইকেল দীর্ঘ ২৫ বছর পর দেশে ফিরে আসেন। তার একটা মিউজিক একাডেমি তথা ড্যান্স স্কুল ছিল। তার দুই প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী লিমন- রিয়া ঢাকার পপ মিউজিকে কাজ করছে এখন।

 কিন্তু ‘সম্পর্ক’ ব্যান্ড দলের অন্যতম ভোকাল মিশু খুন হয়। এই ‘সম্পর্ক’ ব্যান্ড দলেই পিটারের প্রিয় দুই শিষ্য-শিষ্যা সম্পৃক্ত। ঘটনাক্রমে পপ স্টার মিশু হত্যার দায় হতে লিমন- রিয়ারও যেন মুক্তি নেই। এই ব্যান্ড দলের ম্যানেজার ও ভোকাল রিমন, বেজ গিটারিস্ট জাহিদ শেখকেও সন্দেহের তালিকায় দেখে পুলিশ। বাদ যায় না পিটার মাইকেলও। কেন সে এত বছর পরে দেশে ফিরেছে?

রহস্যময় এক পরিণতির দিকে এগোয় গল্প।

নাটকে পিটার মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন নির্মাতা কামরুল হাসান নাসিম। রিয়া চরিত্রে নওশীন, লিমন চরিত্রে শতাব্দী ওয়াদুদ, ডিবি ইন্সপেক্টর চরিত্রে শাহেদ এবং জাহিদ শেখ চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন হিল্লোল।  এছাড়াও জিদান, করভী মিজান, আহসান হাবিব সুমন, সারাহ আল্মাস, এটি এম রাসেল, নীলম, এনি ওয়াটসন ও আয়শা এরিনকেও দেখা যাবে বিভিন্ন চরিত্রে।

নির্মাতা নাসিম জানান, বাংলাদেশের পপমিউজিকের বর্তমান অবস্থা ও এ থেকে উত্তরণের পথ নির্দেশই ছিলো নাটকটির নির্মাণের পেছনের লক্ষ্য। তার ভাষ্যে,  “স্বাধীনতা পরবর্তীকালে আজম খান, ফেরদৌস ওয়াহিদ কিংবা ওমর খালিদ রুমির হাত ধরে যে ব্যান্ড সংগীতের বিকাশ, নানা সমালোচনা ও প্রতিকূলতা উতরে সে জায়গা থেকে মাকসুদ, মাইলস কিংবা সোলসের মতো ব্যান্ডগুলো প্রজন্মের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলো।


কিন্তু অডিও ইন্ডাস্ট্রির নানা বাঁকবদলের কারণে সংগীতাঙ্গনের অন্যান্য শাখার মতোই পপ মিউজিকেও একটা স্থবিরতা কাজ করছে। কেন এমন হবে, কেন ভালো গান আমরা লিখতে পারছি না, সুর করতে পারছি না সেসবেরই কিছু সমাধান টেলিফিল্মটির কাহিনির ভেতরে সুপ্ত আছে।

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি যেমন সমৃদ্ধ তেমনি আমাদের পপ মিউজিকও যেন অনুকরণপ্রিয় না হয়ে, নিজেদের সংস্কৃতিকেই আরও কিছুটা আধুনিক করে নতুন পথ খুঁজে নিতে পারে, গল্পের অন্তরালে সেসবই বলতে চেয়েছি আমরা।”

টেলিফিল্মটি শিগগিরই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা কামরুল হাসান নাসিম।

আরো পড়ুনঃ

No comments

Powered by Blogger.